জ্যোতিষীর কথা ফলেছিল। আমি একদিন সত্যি সত্যিই রাজা হয়েছিলাম- হৃদয় রাজ্যের রাজা; রাজাধিরাজ। না হয়ে উপায় ছিল না। একটি প্লাবন বদলে দিয়েছিল সবকিছু। আগের দিন সব- অলীক স্বপ্নকথা। বান ডেকেছিল নদী; আ্মার প্রেয়সী- রূপোলী বুকের কর্ণফুলি। বৃষ্টি ছাড়াই বান ডাকল সেবার। সে এক আজব বন্যা! এসেছিল দূর্নিবার; প্রচন্ড তেজে সবকিছু ডুবিয়ে-ভাসিয়ে একাকার। কিছুদিন পর সে স্রোত শান্ত হয়ে গেল- আশ্চর্য রকমের শান্ত! নড়াচড়ার কোন লক্ষণই নেই তাতে। দিনে দিনে সে জলরাশি বাড়ে; বাড়তেই থাকে। ডুবল সবই; চাষের জমিগুলো, নীচু এলাকার ঘরবাড়ি, গোশালার গরু, আস্তাবলের ঘোড়া, এটা-সেটা- আরো কত কি! মাসখানেক পর পাহাড়ের মাথাগুলো শুধু জেগে রইল। রাজ-জ্যোতিষীর গণনা শুরু-
আভিশাপ লেগেছে- মা গঙ্গার অভিশাপ। রক্ত চায় নদী- কুমারী মেয়ের বুকের তাজা রক্ত। নদী-মাকে শান্ত করতে হবে মহারাজ। নাহলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
রাজা র্নিবিকার; থাকার মত কিছুই ছিল না আর। সবহারা মানুষের নিজস্ব কোন শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। তাঁর ঠাঁট-বাট, রাজকীয় হাঁকডাক, অবিরাম বজ্রনাদ- সবকিছু যেন ঐ সম্পত্তির সাথে সাথেই ডুবে গিয়েছিল। ইশারায় কুমারী বলিদান- কথাটা ভাবতে গিয়ে আজ তাঁর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। প্রাসাদ বারান্দায় নির্বোধ রাজা- নদীর বিশালতা মাপে; দিগন্তজোড়া রূপালি শামিয়ানা। কোথা থেকে কি হয়ে গেল! -তাঁর বোধে কুলোয় না।
আমি কিছুটা বুঝেছিলাম। -এ নদীর প্রেম। নদী আমাকে ভালবেসে ফেলেছিল। তাইতো, আর দূরে থাকতে পারল না। সবকিছু ভেঙেচুরে ছুটে এল আমার কাছাকাছি। এত কাছে, যেন আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস তাকে ছুঁয়ে যায়; আ্মার প্রতিটি কাব্যকথা- প্রতিটি উচ্চারণ তার বুকের মাঝখানটিতে ঝড় বইয়ে দেয়। -না এসে উপায় ছিল না ওর। সেই ছোটবেলা থেকে রাজ্যময় আমার অবাধ যাতায়াত।সোনাই সবসময় আমার সাথে ঘুরত; পাহাড়ের কোল ঘেঁষে, সমতলে-অবতলে- সবখানে। আমাকে সেই কোলের বয়স থেকে একটু একটু করে বড় করে তুলেছিল লোকটা। সে আমাকে নদী চিনিয়েছিল; নদীর খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। তখন কতইবা বয়স আমার; সাত কি আট। কিছু একটা ছিল তাতে- নদী আমাকে নেশা ধরিয়েছিল। সেই থেকে আমার প্রতিটি বিকাল বিষণœ নদীতীরে; প্রতিটি চন্দ্ররাতে চুপিসারে বজরায়। আর কত সহ্য করবে নদী! সবশেষে আসতেই হল তাকে-
ওসব আমার কাব্যময়তা; বাস্তবতার উল্টোপিঠ-। কিছুদিন পর খবর এল; এ পানি কোনদিনও নামবে না। সরকার নদীতে বাধ দিয়েছে। আটকে থাকা পানি যাবে কোথায়? - যেদিকে ফাঁকা; দে ছুট।
- হঠাৎ করে!
- জলবিদ্যুৎ নামে কি যেন বানাবে। ঐ জিনিস বানাতে গেলে এমনটাই নাকি করতে হয়।
- কি দরকার ছিল এসবের? আমাদের ডুবিয়ে দিয়ে-
- বলেন কি মহারাজ! আমি দেখেছি; ঐ জিনিসে তেল ছাড়া প্রদীপ জ্বলে। পাখা হাতে নাড়তে হয় না; আপনাই ঘুরে- আর সে কি বাতাস! -সুখবর হল; সরকার আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিবে।
- আমার রাজ্যের-
- ওসবে ওরা বিশ্বাসী নয়। বড়জোর দু-চারটা গো-শালা, শখানেক গৃহপালিত আর কয়েকশ বিঘা চাষের জমি- তাও যদি প্রমাণ থাকে।
- প্রমাণ!
- শুভঙ্করের ফাঁকি যাকে বলে। লাভ নেই মহারাজ। ঐ আশায় বসে বসে শেষে বাড়িটাই না ডুবে। তারচেয়ে, এখনো যা আছে, তা নিয়ে ওপারে পাড়ি জমান। উপায় নেই আর।
যত তাড়াতাড়ি পানি এসেছিল, বাড়ি খালি হতে সময় লাগল তার চেয়েও কম। রাজা গেল, রাণী গেল, চাকর-চাকরাণী, দাসী-বাঁদী, নায়েব-গোমস্তা, আয়া-দারোয়ান, ছোট ছোট বাচ্চা-কাচ্চা, স্বর্ণমুদ্রা, অলংকার, বাসন-কোসন, আসবাবপত্র, তিনখানা বিশাল আকৃতির বজরা- বাদ পড়লনা কিছুই। বাদ পড়লাম আমি- নিজের ইচ্ছাতেই। রাজা অনেক পীড়াপীড়ি করেছিল; আমি অনড়। যে নদী সব ছেড়ে আমার কাছে ছুটে এসেছে, তাকে ছেড়ে যাওয়ার মত স্বার্থপর আমি তখনো হয়ে উঠিনি। আর রইল সোনাই (ওর ভালবাসা আমি)।
আভিশাপ লেগেছে- মা গঙ্গার অভিশাপ। রক্ত চায় নদী- কুমারী মেয়ের বুকের তাজা রক্ত। নদী-মাকে শান্ত করতে হবে মহারাজ। নাহলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
রাজা র্নিবিকার; থাকার মত কিছুই ছিল না আর। সবহারা মানুষের নিজস্ব কোন শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। তাঁর ঠাঁট-বাট, রাজকীয় হাঁকডাক, অবিরাম বজ্রনাদ- সবকিছু যেন ঐ সম্পত্তির সাথে সাথেই ডুবে গিয়েছিল। ইশারায় কুমারী বলিদান- কথাটা ভাবতে গিয়ে আজ তাঁর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। প্রাসাদ বারান্দায় নির্বোধ রাজা- নদীর বিশালতা মাপে; দিগন্তজোড়া রূপালি শামিয়ানা। কোথা থেকে কি হয়ে গেল! -তাঁর বোধে কুলোয় না।
আমি কিছুটা বুঝেছিলাম। -এ নদীর প্রেম। নদী আমাকে ভালবেসে ফেলেছিল। তাইতো, আর দূরে থাকতে পারল না। সবকিছু ভেঙেচুরে ছুটে এল আমার কাছাকাছি। এত কাছে, যেন আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস তাকে ছুঁয়ে যায়; আ্মার প্রতিটি কাব্যকথা- প্রতিটি উচ্চারণ তার বুকের মাঝখানটিতে ঝড় বইয়ে দেয়। -না এসে উপায় ছিল না ওর। সেই ছোটবেলা থেকে রাজ্যময় আমার অবাধ যাতায়াত।সোনাই সবসময় আমার সাথে ঘুরত; পাহাড়ের কোল ঘেঁষে, সমতলে-অবতলে- সবখানে। আমাকে সেই কোলের বয়স থেকে একটু একটু করে বড় করে তুলেছিল লোকটা। সে আমাকে নদী চিনিয়েছিল; নদীর খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। তখন কতইবা বয়স আমার; সাত কি আট। কিছু একটা ছিল তাতে- নদী আমাকে নেশা ধরিয়েছিল। সেই থেকে আমার প্রতিটি বিকাল বিষণœ নদীতীরে; প্রতিটি চন্দ্ররাতে চুপিসারে বজরায়। আর কত সহ্য করবে নদী! সবশেষে আসতেই হল তাকে-
ওসব আমার কাব্যময়তা; বাস্তবতার উল্টোপিঠ-। কিছুদিন পর খবর এল; এ পানি কোনদিনও নামবে না। সরকার নদীতে বাধ দিয়েছে। আটকে থাকা পানি যাবে কোথায়? - যেদিকে ফাঁকা; দে ছুট।
- হঠাৎ করে!
- জলবিদ্যুৎ নামে কি যেন বানাবে। ঐ জিনিস বানাতে গেলে এমনটাই নাকি করতে হয়।
- কি দরকার ছিল এসবের? আমাদের ডুবিয়ে দিয়ে-
- বলেন কি মহারাজ! আমি দেখেছি; ঐ জিনিসে তেল ছাড়া প্রদীপ জ্বলে। পাখা হাতে নাড়তে হয় না; আপনাই ঘুরে- আর সে কি বাতাস! -সুখবর হল; সরকার আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিবে।
- আমার রাজ্যের-
- ওসবে ওরা বিশ্বাসী নয়। বড়জোর দু-চারটা গো-শালা, শখানেক গৃহপালিত আর কয়েকশ বিঘা চাষের জমি- তাও যদি প্রমাণ থাকে।
- প্রমাণ!
- শুভঙ্করের ফাঁকি যাকে বলে। লাভ নেই মহারাজ। ঐ আশায় বসে বসে শেষে বাড়িটাই না ডুবে। তারচেয়ে, এখনো যা আছে, তা নিয়ে ওপারে পাড়ি জমান। উপায় নেই আর।
যত তাড়াতাড়ি পানি এসেছিল, বাড়ি খালি হতে সময় লাগল তার চেয়েও কম। রাজা গেল, রাণী গেল, চাকর-চাকরাণী, দাসী-বাঁদী, নায়েব-গোমস্তা, আয়া-দারোয়ান, ছোট ছোট বাচ্চা-কাচ্চা, স্বর্ণমুদ্রা, অলংকার, বাসন-কোসন, আসবাবপত্র, তিনখানা বিশাল আকৃতির বজরা- বাদ পড়লনা কিছুই। বাদ পড়লাম আমি- নিজের ইচ্ছাতেই। রাজা অনেক পীড়াপীড়ি করেছিল; আমি অনড়। যে নদী সব ছেড়ে আমার কাছে ছুটে এসেছে, তাকে ছেড়ে যাওয়ার মত স্বার্থপর আমি তখনো হয়ে উঠিনি। আর রইল সোনাই (ওর ভালবাসা আমি)।
No comments:
Post a Comment