ডাক্তার এলো।
- না! অবস্থা জটিল। অপারেশন লাগবে বোধ হয়।
আরেকজন আরো ভালো-
- এ দেশে চিকিৎসা হবে না এ রোগের। বাইরে নিতে হবে। অনেক টাকার ব্যাপার-।
বাবার মাথায় হাত। এখনো পেনশনের টাকা আসা শুরু হয়নি। তার উপর ছেলের কলেজ- দুসপ্তাহে তার বয়স দ্বিগুণ বাড়ে। আর আমার বোন; ওর নামের মতোই দিনে দিনে সে মেঘাচ্ছন্ন- শুকিয়ে অর্ধেক হতে থাকে। কি হবে এবার! এমন সময় প্রস্তাবটা আসে। বাবার বন্ধু ইসমাইল চাচা - মাছের ব্যবসা তাঁর।
মেঘলার বিয়ের ব্যাপারে অতি উৎসাহী-
- বুঝলেন ভাবী। আপনার মেয়ের জন্য এর চেয়ে ভালো ছেলে আর পাবেন না। শহরের উপর পাঁচতলা বাড়ি। চার চারটা মাছের আড়ত। আর টাকা পয়সার কথা কি বলব- অঢেল!
- ছেলের বয়স নাকি খুব বেশি?
- ছেলের আবার বয়স কি। ঐ ছেলের জন্য কত জন মেয়ে নিয়ে বসে আছে জানেন- ফিরেও দেখেনি। খালি আমি বললাম দেখে- হাজার হোক, বন্ধুর জন্য কিছু একটা তো করা লাগে।
- কিন্তু-
- আবার কিন্তু কিসের ভাবী। মেয়ের বাপ রিটায়ার্ড। তার উপর মেয়ের অবস্থা দিনে দিনে যা হচ্ছে -কিছুদিন পর তো ভালো-খারাপ কোনোভাবেই চালানো যাবে না। আবার ছেলে একটাওতো আছে। ওকে পড়ানো লাগবে না ?
- নুন আনতে পান্তা নেই- ছেলে পড়ানো।
- সেটাই তো বলছি। আল্লার রহমতে, ওদের টাকার অভাব নেই। মেয়েটা বিয়ে দেন। একটিমাত্র শালা -ওরা তো ফেলে দিতে পারবে না। আপনার ছেলের লেখাপড়ার খরচ ওরাই চালাবে।
- দেখি; আপনার বন্ধু-
- ওর কথা শুনেছেন তো মরেছেন। একমাস পর প্রোভিডেন্ট ফান্ডের টাকা হাতে আসবে -সব তো খেয়ে শেষ করে দিবে সে। আমি ওেক চিনি না! তখন মেয়ে বিয়ের টাকা পাবেন কোথায় ?
কথাগুলো মাকে জেঁকে ধরেছিল। বাবার পেনশনের দুহাজার টাকা হাতের মুঠোয় ধরে কি যেন ভাবত মা। আর আমার মেঘবতী বোন ব্যাথাওয়ালা মাথা নিয়ে কি সব জটিল হিসেব কষত সারাক্ষণ।
এক মাস সমান তিরিশ দিন, চারজন লোক, দুই হাজার টাকা- জীবনের একমাত্র হিসেব।
No comments:
Post a Comment