Thursday, October 07, 2010

ধ্বংসের পাটাতনে (১)

নচ্ছার বরষায় উত্তুরের দেওয়ালটাতে ভাঙন ধরেছে এবার। এভাবে চললে এই বর্ষা পর্যন্ত ঘরটা টিকবে কি না সন্দেহ- চিন্তায় রসুলের কপালে ভাঁজ পড়ে; আবার অনেকগুলো টাকা খসল। হায়রে নিয়তি! অথচ কি কষ্ট করেই না বেশ অনেকগুলো টাকা জমিয়েছিল সে; একখানা গাই-গরু কিনবে, দুধ বেচে টাকা জমাবে- সেই টাকায় বিয়ে করবে একটা; বয়স যে ওকে ফাঁকি দিতে বসল। মা বাবা না থাকার এই এক ঝামেলা। সব এসে খালি বলে যায়
-একখান বউ লিয়ে আয় রাছুল। রঁধি খাওয়াবিনে। ওই পর্যন্তই। তারপর আর কারো পাত্তা নেই। ওই শুনতে শুনতে বছর ছয়েক- আর কত! নিজেরই কিছু করা লাগে। -সে বাড়া ভাতে ছাই। ঘরের চালা ঠিক না করলে ঘর থাকবেনা। যার ঘরই নাই তাকে মেয়ে দিবে কোন বাপে!  এইসব সাত-পাঁচের গ্যাঁড়াকলে আটক রসুলের আকষ্মাৎ ভাবান্তর ঘটে। -ব্যাপারখানা কি? হরিপদের প্রৌঢ় বাপটা ওভাবে দৌঁড়াচ্ছে কেন? আবার কেউ মরল না তো! -অবশ্য মরাটা এখানে নৈমিত্তিক; এইতো মাস-দুই আগে সুলেখার দুটো বাচ্চা একসাথে মরল বাঁধ থেকে পড়ে- খুঁজেই পেল না কেউ; কোথাকার ঢেউ কোথায় টেনে নেয়! এবার কারটা গেল? 

বাচ্চাকাচ্চার অভাব নেই এখানে; সবসময় জন্মাচ্ছে- প্রতি মাসে দু-একটা। কার যে কয়টা; বাপ-মা নিজেও জানেনা হয়তো। বাঁচা-মরা কোন বিষয় না এখানে। প্রথম প্রথম খারাপ লাগত; এখন সব গা সওয়া। যাক। আল্লাহর মাল আল্লাই নিয়ে যায়। অত ভাবার সময় কোথায় তার? তারচেয়েও কত বড় বড় বিষয় পড়ে আছে- এই তো বেশ কিছুদিন ধরে কানাঘুষা শুনছে; ওদের পুরো পাড়াটা না কি সরকারি সম্পত্তি। বড় বাড়ির ছোট ছেইলে গফুর মোল্লা জায়গাটা কিনে নিয়েছে। আজ-কালের মধ্যে দখল নিতে আসবে। -বললেই হল! দশগ্রামের সবাই জানে এ জমির নিরঞ্জনের পৈত্রিক। বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ ধরে বাস ওদের। যদিও ও বংশের কেউ নেই এখানে; তাতে কি! -নিরঞ্জন তো বেঁচে আছে; পাগল-ছাগল মানুষ- এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়; নিশিরাতে বনে-বাদারে বাঁশি বাজায়- তারপরও, রসুলরা কি ওর দেখাশোনা করে না? অকর্মার ঢেঁকি পাগলাটাকে ওরা কি পালাক্রমে দিনে দু-বেলা খাওয়ায় না? নাহলে কবেই না খেতে পেয়ে মারা যেত। তার বদলে ওর বাপ-দাদার ভিটেয় ঘর বানিয়ে থাকছে ওরা- তাও তো বার বছর হতে চলল। নিরঞ্জনের বাপ-দাদাদের যদিও রসুল দেখে নি; হরিপদেও বাপ তো দেখেছে। সেই ছেলেবেলা থেকে একসাথে উঠা-বসা ওদের। আর এতদিন পর কেউ যদি বলে বসে-

No comments: