Friday, January 01, 2021

বৃত্তায়ন (৩)

ইতিমধ্যে ঝুমুর এক রাউন্ড শেষ করে উঠে; অবিরাম একঘন্টা চল্লিশ মিনিট। পরবর্তী ভঙ্গীগুলো আকাশের বেশ পরিচিত; দু-বাহু টানটান করে জড়তা ভাঙানো, কিছুক্ষণ গা মোড়ামুড়ি- সবশেষে সেই পরিচিত উক্তি

- আমার চেহারা খুব একটা ভাল না রে -। ঠিক না?

- খুব বেশি খারাপ না কিন্তু। এই ধর, মুখভর্তি ব্রণের দাগ, বোঁচা নাক-

- আমার এত খুঁত!

- খুঁত আরো আছে। তবে- 

- তবে!

- স্বয়ং চাঁদেরও খুঁত আছে।


প্রশংসার মাত্রাটা হয়তো বেশিই ছিল। ঝুমর লজ্জায় লাল হয়ে উঠে। খুশিও হয়। বেশ বিগলিত কন্ঠে আকাশকে বলে

- তুই ভাইটা না খুব ভালো। মাথায় বুদ্ধির অভাব নেই। কথাবার্তাওতো ভালই পারিস। হঠাৎ এমন হয়ে গেলি কেন!

- কেমন হয়েছি? 

- তুই জানিস; তুই হান্ড্রেড পার্সেন্ট ভেঙে পড়া একজন মানুষ।

- তাহলে বলব; তুমি কিছুই দেখনি।

- কি দেখিনি।

- ভেঙে পড়া মানুষ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া মানুষ। আমাদের ক্যাম্পাসে একজন আছে। ওর এতদিনে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা; সারাদিন হলে হলে ঘুরে বেড়ায় । নিয়ন্ত্রণহীন একজন- 

ঝুমুর একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছু একটা মনে পড়ে যায় ওর; একটা ঘুণে ধরা কাহিনী। সাবধানে এক অতি চাপা দীর্ঘশ্বাস আড়াল করে সে আকাশের কথায় সম্মতি জানায়

- রাইট ইউ আর। তোর চেয়ে অনেকগুণ বেশি ভেঙে পড়া মানুষ আমি দেখেছি; পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া মানুষ। বাই দা বাই, তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে।

- আবার কে?

- নেট।

- আরিয়ান হামিদ!

- পাগল হয়ে গেছে।

- এতক্ষণ ওর সাথে কথা চলছিল?

- হুঁ। ওর কার্ড শেষ। নূতন কার্ড কিনে আবার কল করবে। 

- এটা কি ফেয়ার?

- আমি তো কারো ক্ষতি করতে যাচ্ছি না। ছেলেগুলো কত আশা করে বসে থাকে নারীকন্ঠের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য। আমি জাস্ট ওদের কিছু সময় দিই।

- ঐ যে বললে, আরিয়ান পাগল হয়ে যাচ্ছে।

- ও তো আস্ত পাগল। প্রথম কয়েকদিন সে কি আকুতি! -হোয়াই ডোন্ট ইউ কন্টাক্ট মি? -প্লীজ সেন্ড ইওর নাম্বার। প্রথমে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। পরে এত মায়া লাগল; পাঠিয়ে দিলাম।

- বেশ ভাল করেছ!

- তবে, আমার মনে হয় সে আমাকে বেশ পছন্দ করে। আর কিছুদিন দেখি। তারপর-

- তারপর!

- ইয়েস বলতে পারি।

No comments: