ইতিমধ্যে ঝুমুর এক রাউন্ড শেষ করে উঠে; অবিরাম একঘন্টা চল্লিশ মিনিট। পরবর্তী ভঙ্গীগুলো আকাশের বেশ পরিচিত; দু-বাহু টানটান করে জড়তা ভাঙানো, কিছুক্ষণ গা মোড়ামুড়ি- সবশেষে সেই পরিচিত উক্তি
- আমার চেহারা খুব একটা ভাল না রে -। ঠিক না?
- খুব বেশি খারাপ না কিন্তু। এই ধর, মুখভর্তি ব্রণের দাগ, বোঁচা নাক-
- আমার এত খুঁত!
- খুঁত আরো আছে। তবে-
- তবে!
- স্বয়ং চাঁদেরও খুঁত আছে।
প্রশংসার মাত্রাটা হয়তো বেশিই ছিল। ঝুমর লজ্জায় লাল হয়ে উঠে। খুশিও হয়। বেশ বিগলিত কন্ঠে আকাশকে বলে
- তুই ভাইটা না খুব ভালো। মাথায় বুদ্ধির অভাব নেই। কথাবার্তাওতো ভালই পারিস। হঠাৎ এমন হয়ে গেলি কেন!
- কেমন হয়েছি?
- তুই জানিস; তুই হান্ড্রেড পার্সেন্ট ভেঙে পড়া একজন মানুষ।
- তাহলে বলব; তুমি কিছুই দেখনি।
- কি দেখিনি।
- ভেঙে পড়া মানুষ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া মানুষ। আমাদের ক্যাম্পাসে একজন আছে। ওর এতদিনে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা; সারাদিন হলে হলে ঘুরে বেড়ায় । নিয়ন্ত্রণহীন একজন-
ঝুমুর একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছু একটা মনে পড়ে যায় ওর; একটা ঘুণে ধরা কাহিনী। সাবধানে এক অতি চাপা দীর্ঘশ্বাস আড়াল করে সে আকাশের কথায় সম্মতি জানায়
- রাইট ইউ আর। তোর চেয়ে অনেকগুণ বেশি ভেঙে পড়া মানুষ আমি দেখেছি; পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া মানুষ। বাই দা বাই, তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে।
- আবার কে?
- নেট।
- আরিয়ান হামিদ!
- পাগল হয়ে গেছে।
- এতক্ষণ ওর সাথে কথা চলছিল?
- হুঁ। ওর কার্ড শেষ। নূতন কার্ড কিনে আবার কল করবে।
- এটা কি ফেয়ার?
- আমি তো কারো ক্ষতি করতে যাচ্ছি না। ছেলেগুলো কত আশা করে বসে থাকে নারীকন্ঠের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য। আমি জাস্ট ওদের কিছু সময় দিই।
- ঐ যে বললে, আরিয়ান পাগল হয়ে যাচ্ছে।
- ও তো আস্ত পাগল। প্রথম কয়েকদিন সে কি আকুতি! -হোয়াই ডোন্ট ইউ কন্টাক্ট মি? -প্লীজ সেন্ড ইওর নাম্বার। প্রথমে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। পরে এত মায়া লাগল; পাঠিয়ে দিলাম।
- বেশ ভাল করেছ!
- তবে, আমার মনে হয় সে আমাকে বেশ পছন্দ করে। আর কিছুদিন দেখি। তারপর-
- তারপর!
- ইয়েস বলতে পারি।
No comments:
Post a Comment